কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। লেখালেখি, তথ্য খোঁজা, ছবি ও ভিডিও তৈরি, অনুবাদ, পড়াশোনা, অফিসের কাজ থেকে শুরু করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যসেবাতেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজেও এআইনির্ভর প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। একসময় যে প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের বিষয় হিসেবে দেখা হতো, সেটিই এখন মানুষের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশেও এর প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা, গণমাধ্যম, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবায় এ প্রযুক্তি ব্যবহারের চিত্র উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল কাজ সহজ করার ক্ষেত্রে এআই তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ছে, যা কাজের গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তবে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই এর সঠিক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্নও সামনে আসছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের সহায়তায় পড়াশোনা সহজ হলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে কর্মক্ষেত্রে এআই অনেক কাজ সহজ করলেও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা অর্জন না করলে অনেক মানুষ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এ ছাড়া এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তাও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ব্যক্তিগত তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ নথি বা গোপনীয় তথ্য যাচাই ছাড়া অবাধে এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের ফলে ক্রমেই বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি। তবে সব নেতিবাচক দিক ছাড়িয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় এআই সম্পর্কে জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা যুক্ত করা দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য একান্ত প্রয়োজন। পৃথিবী ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এআইয়ের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়, প্রয়োজন এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাই সরকারকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা, তথ্য নিরাপত্তা এবং সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সুবিধা যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ পায়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। তাই এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং দক্ষতা বৃদ্ধির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।