দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে চাই দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে চাই দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাত শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি তারই বাস্তব উদাহরণ। এলজিইডির প্রাথমিক হিসাবে ৬১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ, প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক, ছয়টি কালভার্ট ও একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণে প্রয়োজন প্রায় ৩০ কোটি টাকা। যোগাযোগব্যবস্থা কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণভোমরা। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে, রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রশাসন ও এলজিইডি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব সম্পন্ন করে জরুরি সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বন্যায় আবারও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই পুনর্র্নিমাণের পাশাপাশি সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণে দুর্যোগ-সহনশীল নকশা, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও জলপ্রবাহের বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। এ বাস্তবতায় অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য। শুধু ক্ষয়ক্ষতির পর অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক সংস্কারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি বরাদ্দ দ্রুত অনুমোদন, ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সচল করা এবং পুনর্র্নিমাণকাজে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন কেবল অবকাঠামো মেরামতের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু সুপরিকল্পিত, টেকসই ও জবাবদিহিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সাতকানিয়ার অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি উপজেলার সংকট নয়; এটি দেশের দুর্যোগ-সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে