কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্ধুদের সঙ্গে রামকৃষ্ণপুরের ভাগজোত পদ্মা নদীর ধারে ফুটবল খেলতে গিয়ে নদীতে ডুবে গিয়ে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের আগে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১৩) নামে আরেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করে। নিখোঁজ মোস্তাকিমকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার জাল দিয়ে নদীতে তল্লাশি চালায়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান শুক্রবার দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছয় শিশু ভাগজোত পদ্মা নদীর ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের টানে পদ্মা নদীতে ডুবে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানির দিকে তলিয়ে যায়। তারা দুজনই পানিতে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে প্রবল স্রোতের কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া না
গেলে খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরাও মাছ ধরার জাল দিয়ে নদীতে তল্লাশি চালায় এবং ভেড়ামারা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল বিকেল থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয় পরে শুক্রবার রাতে খুলনা থেকে ডুবুরী দল এসে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালিয়েও শিশুটিকে উদ্ধার করতে না পেরে তারা ফিরে যায়। পরে শনিবার ভোর ছয়টার দিকে পদ্মা নদীর ভাগজোত এলাকায় ডুবে যাওয়ার স্থানের কিছু দূরবর্তি স্থান থেকে ডুবে যাওয়া নিখোঁজ শিশু মুস্তাকিম হোসেনের লাশ ভেসে ওঠে। পরে তার স্বজনেরা লাশ উদ্ধার করে শনিবার সকাল দশটায় রামকৃষ্ণপুরের বেতুলতলা গোরস্থানে নামাজে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান শিশু নিখোঁজের পর তার লাশ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেন।