মান্দায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

এফএনএস (আব্দুল আজিজ; নওগাঁ) : | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
মান্দায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

নওগাঁর মান্দায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে। তবে সরকারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভুয়া স্বাক্ষরে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। কাগজ-কলমে দুই দিনের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও বড় অঙ্কের ভাতার হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে তার উল্টো। একদিনেই দায়সারাভাবে প্রশিক্ষণের প্রকল্প হরিলুট করেছেন। শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা না দিয়ে একটি স্যানিটারি প্যাড ও সামান্য নাস্তা দিয়েই বিদায় করা হয়েছে।

‎২০২৫-২০২৬-অর্থ বছরের (এডিপি)-র বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা। বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ১,৫০০ টাকা হারে ২ দিনে ৩,০০০ টাকা পাওয়ার কথা। ৪ জন প্রশিক্ষকের প্রত্যেকের জন্য দৈনিক ৩,০০০ টাকা হারে ২ দিনে ৬,০০০ টাকা হিসাবে মোট ২৪,০০০ টাকা পাবে। অথচ কাগজে কলমে পূর্ণ উপস্থিতি দেখিয়ে সব জায়েজ করেছেন।

‎ গত ১৫ জুন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নথি-কলমে শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা কেউ কোন ভাতা পাননি অথচ ভুয়া স্বাক্ষর করে ২ দিন প্রশিক্ষণের পুরো ৬০ শিক্ষর্থীর টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম বলেন, "আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে গিয়েছিলাম। তারা দুপুরের খাবার ছাড়া কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী জানান, শিক্ষার্থীদের কোন ভাতা দেওয়া হয়নি। তাদের হাতে খাবার প্যাকেট ও স্যানিটারি প্যাড দেখেছি। আর যাতায়াতের জন্য ১ হাজার টাকা খরচ দেওয়া হয়েছে।

‎প্রশিক্ষক হিসাবে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন জানান, "১৫ জুন ১ দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি ১ দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছি। বাজেট অনুযায়ী ২ দিনের জন্য ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৪ জন প্রশিক্ষককে ১ দিনের ভাতা হিসেবে মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বলেন, শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা না দিয়ে স্যানিটারি প্যাড এবং খাবার দেওয়া হয়েছে। তবে কোন ভাতা দেওয়া হয়নি। ভাতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কিছু খরচ দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহল পুরো বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে