লালপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’- এমন ভুয়া ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করার অভিযোগে অবশেষে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নাটোর জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদ ও পদ থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত রোববার (২৩ আগস্ট) মারুফ আলীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয় জেলা ছাত্রদল। তাকে ২৪ আগস্টের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং অভিযোগের বিষয়টি তিনি স্বীকার করায় সাংগঠনিক ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত - লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে প্রায় ছয় দশক ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারের টুর্নামেন্টে স্থানীয় কলেজ, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ছয়টি দল অংশ নেয়।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ছাত্রদল নেতা মো. মারুফ আলী ফাইনাল খেলায় পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তবে আয়োজকরা দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অতিথি না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে ঘোষণা দেন খেলার মাঠে ‘১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে’ এবং সেখানে কেউ খেলতে পারবেন না। এমন ঘোষণার পর ফাইনাল ম্যাচটি স্থগিত হয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখতে পায়। পরে আয়োজকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ফাইনাল ম্যাচটি অন্য সময়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি নজরে আসে জেলা ছাত্রদলের। পরে মারুফ আলীকে শোকজ করা হয়। তার লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মঙ্গলবার তাকে সাংগঠনিক ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা ছাত্রদল। লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইস বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় একটি ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ১৪৪ ধারা জারির মতো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ব্যক্তিগতভাবে কারও নেই।” জেলা ছাত্রদল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মারুফ আলীকে বহিষ্কার করেছে।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে আসার পর সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তার বক্তব্য ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. মারুফ আলী মুঠোফোনে জানান, সংগঠনের প্রতি আমি সদা সর্বদা অনুগত আছি। দলের স্বার্থে দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। বহিষ্কারের বিষয়টা জেনে আয়োজকদের অন্যতম সদস্য মাহবুব ইসলাম মিন্টু সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, গ্রামে তো ফুটবল খেলা হবেই। তবে গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।