সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে উপস্থিত হন সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন তারা। শরীর ও মন সুস্থ রাখার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করাই যেন তাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।
মাত্র ৮ জনকে নিয়ে খেলা শুরু হয়েছিল রাতের এ ফুটবল আয়োজন। সময়ের সঙ্গে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ জনে। প্রতিদিন নিয়ম করে চলছে এ খেলা।
খেলার উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির চিত্র সাংবাদিক মো.সোহেল, এখন টিভির আশিকুর রহমান আশিক। ক্রীড়ামোদী কাইয়ুম খান ডলফিন ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন । তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ‘নাইট ফুটবল ক্লাব’ এখন শুধু খেলাধুলার আয়োজন নয়; বরং ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় সন্ধ্যে হলেই সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে মাদকের আড্ডা বসত। তবে নিয়মিত খেলাধুলা শুরু হওয়ায় সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন রাত হলেই মাঠে দেখা যায় ফুটবল খেলতে আসা তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। খেলাধুলার কারণে মাদকের আখড়া মুক্ত হয়েছে এ মাঠ। এ বিষয়ে সাংবাদিক জাকির হোসেন বলেন, “আমরা আগে নিয়মিত খেলাধুলা করতাম। এখন খেলাধুলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে মাঠের পরিবেশ সুন্দর হওয়ায় আবার খেলছি।এতে করে শরীর ও মন ভাল থাকে।
উদ্যোক্তা মো. সোহেল বলেন,আমরা সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে নিজেদের সুস্থ রাখার একটু চেষ্টা করছি। আমরা মাঠে খেলা শুরু করার পর আরও অনেক ক্রীড়ামোদী এখন মাঠে খেলতে আসছেন। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এটি খুবই ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি গোলবার ও একটি ফুটবল উপহার দিয়েছেন।
খেলোয়াড়রা জানান, সারাদিন যার যার পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকার পর রাতে এক ঘণ্টা সবাই একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ পান। ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চার পাশাপাশি মানসিক চাপও কিছুটা কমে। তাদের এই ছোট্ট উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও মানুষকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করবে এমন প্রত্যাশা তাদের।