নিষিদ্ধ দল ছাড়া সভা-সমাবেশে বাধা নেই: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
নিষিদ্ধ দল ছাড়া সভা-সমাবেশে বাধা নেই: আইনমন্ত্রী
ফাইল ছবি

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে এবং এতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করাকেও ইতিবাচকভাবে দেখে বর্তমান সরকার। তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে ভাষা ব্যবহারে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

সরকারের সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, মন্ত্রীদের তোপের মুখে না রাখলে সরকার সঠিক পথে চলতে পারবে না। সরকারের স্তুতি না করে সমালোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, "তোপের মুখে রাখা বা সরকারের সমালোচনা করাকে ইতিবাচকভাবে দেখে সরকার।" তবে এ ক্ষেত্রে ভাষা প্রয়োগে সচেতনতা প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে কথা বলার কারণে লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তারের যে সংস্কৃতি ছিল, বর্তমান সরকার তা থেকে বের হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসের পরিসংখ্যানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো ঘটনা নেই।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ছাড়া অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে পারবে। সরকারের সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে।

গুমের অভিযোগ এবং মানবাধিকার আইন নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। মিরাজ শেখ গুমের অভিযোগে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে রাষ্ট্র ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে রয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন নিয়ে সমালোচনার জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, আগের খসড়াগুলোতে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ছিল। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আইনগুলো নতুনভাবে সংসদে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব আইন সরকার বাতিল বা আটকে দিচ্ছে বলে যে প্রচার হয়েছে, সেটিও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী জানান, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের সুযোগ থাকবে। তবে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ভুক্তভোগী না হন, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলা হচ্ছে না, এমন দাবি সরকার করছে না। তবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি মামলায় চার্জশিট হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দল থেকে যৌক্তিক কোনো প্রস্তাব এলে তা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলের পাঁচজনের নামের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হবে।

সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ভিত্তি হিসেবে রাখার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকে ১৯৭২ সালের সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেছেন। তবে সংস্কার নিয়ে যা করা হোক না কেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে সামনে রেখেই এগোতে হবে, কারণ সেটিই এখনো বলবৎ রয়েছে।

বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আসাদুজ্জামান। বিচার বিভাগের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেন। যারা সংবিধান সংস্কারে মতামত দেবেন, তাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক হলে গ্রহণের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

সবশেষে অতীতের খুন, গুম ও রাজনৈতিক মামলা-মোকদ্দমার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে