১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এফএনএস (জাকির হোসেন; বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ি) : | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের স্বাস্থ্যসেবায় যে অব্যবস্থাপনা সেটি দুই-এক  মাসে ঠিক করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (২১) আগস্ট সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির বহরপুরের বাঘুটিয়া গ্রামে চিৎকিসকের অবহলোয় কনিকা রানী মন্ডলের (৩৫) মৃত্যুর খবরে নিহতের বাড়িতে এসে একথা বলেন তিনি।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল  সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ফারুক হোসেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মশিউল আজম চুন্নু, সাবেক সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বিল্লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ আশিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তুহিনুর রহমান তুহিন প্রমুখ। 

দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার  মতো ক্লিনিক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতালগুলো তৈরি হয়েছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  দীর্ঘ ১৭ বছরের গড়ে ওঠা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওযার পর এই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের পর প্রায় ৫১ দিন পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এমন সংবাদ আমাদের সরকারকে ব্যথিত করেছেন। সকালে ঢাকা থেকে রাজবাড়ীতে ছুটে আসছি।  রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের তারা প্রতিবেদন দিবেন। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০ শয্যা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যা কিনডি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টারের কাজ শুরুর লক্ষে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন কনিকা মন্ডল অসুস্থ্য হলে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্ণী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে কনিকাকে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কনিকা কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরদিন আমার স্ত্রীর পেট ফুলে যায় ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিয়ষটি চিকিৎসককে জানানো হলে তিনি বিষয়টি জানাভাবে এড়িয়ে যায়। এরপর তাকে রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপতালাতে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেন। ১৯ আগস্ট বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল মারা যায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে