গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালে এক্স-রে সহ বিভিন্ন প্যাথলজি বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। ফলে রুগীরা পরেছে চরম বিপাকে।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়,
২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ১০/১২ ঘণ্টা এবং পৌর ও শিল্প এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়েও পড়েছে বিপাকে।
কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে শুধু মৌচাক,তেলিরচালা ও চন্দ্রা শিল্পাঞ্চলে কারখানার চাহিদাই ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। (এমএপিএস)
ফলে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ফুলবাড়িয়া, মধ্যপাড়া, বোয়ালী, সূতাপাড়া, কালামপুর,মৌচাক গ্রামাঞ্চলে অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা।
কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় গ্রিড থেকে যা পাই তাই বিতরণ করছি। কালিয়াকৈর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় করুণ চিত্র।
আউট ডোরে ডাক্তার দেখাতে আসা রহিমা বেগম বলেন, গরমের কারনে গ্রাম অঞ্চলে রোগ শোক বেশি দেখা দিচ্ছে। তাই হাসপাতালে রোগীদের এতো ভীড়। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডের ভর্তি রোগী ও স্বজনরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। কেউ হাতপাখা, কেউ প্রেসক্রিপশনের ফাইল দিয়ে বাতাস করছেন। শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া গোবিন্দ মাল বলেন,বিদ্যুৎ নাই ফ্যান ঘুরে না আমার শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে গিয়েছে।তবু গ্যাস নিতে পারছিনা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজিষ্ট হুমায়ূন কবির জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে রিপোর্ট প্রদান সম্ভব নয়। এতে চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা.তাসনীম আক্তার মুনমুন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি চিকিৎসা বিঘ্নত হচ্ছে। যেমন শ্বাসকষ্টের রোগীর নেবুলাইজার, জরুরী রোগীর অক্সিজেন কন্সানট্রেটর, এক্স-রে ও প্যাথলজির মেশিন বন্ধ । পানির পাম্প বন্ধ থাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
আব্দুল আলীম অভি
কালিয়াকৈর
০১৭১২৮৮৬২২৯