বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা অফিস করায় বিপুলসংখ্যক দলিল আটকে থাকার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে ‘ভুক্তভোগী জমির ক্রেতা-বিক্রেতাগণ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করেন, শেরপুর সদর অফিসের পর এটি বগুড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর একটি। অথচ এখানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নেই। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তাহে বুধবার ও বৃহস্পতিবার অফিস করেন। এতে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দলিল সম্পাদনে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের দলিলের কাজে এসে তিনি দেখেছেন, অনেক দলিল আটকে আছে। সপ্তাহে দুই দিন কয়েক ঘণ্টা করে কাজ করে এত বড় অফিসের বিপুলসংখ্যক দলিল সম্পাদন করা সম্ভব নয়।
সীমাবাড়ী ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ১৩ জন ওয়ারিশকে নিয়ে শিমলা এলাকা থেকে ছয়বার অফিসে এসেও তাঁরা দলিল সম্পাদন করতে পারেননি। বারবার যাতায়াতের ভোগান্তিতে তাঁদের এক অসুস্থ বোন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অফিসের কর্মচারী সজীবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩৫০টির বেশি দলিল জমা পড়লেও সম্পাদন হচ্ছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল জমে থাকছে।
সেবাগ্রহীতাদের স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, “শেরপুর অফিসে একজন নিয়মিত কর্মকর্তা পদায়ন করা খুবই জরুরি। আমি সেবাগ্রহীতাদের এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত।”
তবে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত দেরি করে অফিসে আসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাঈমা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, “অফিসে দেরি করে আসার অভিযোগটি সঠিক নয়। আমি এমনকি জেলা রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিয়ে ছুটির দিনেও অফিসে কাজ করেছি। অতিরিক্ত সময় দিয়ে দিনে প্রায় ২০০টি দলিল রেজিস্ট্রি করার নজিরও আমার রয়েছে।”
বুধবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছুটা দেরি হওয়ার বিষয়টি তিনি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দলিল লেখকদের জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, “আজ বুধবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একটু দেরি হওয়ায় বিষয়টি আমি আগেই আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দলিল লেখকদের অবহিত করেছিলাম।”