হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৯৩১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৮ জন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো হামবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৩ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯২২ জন।
নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৮৭ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। আর ৯৩১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৭৮৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ৯২৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গসহ সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৭৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। সন্দেহজনক রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৩৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে মারা গেছেন ১৩৬ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ৭৪, চট্টগ্রামে ৬৩, বরিশালে ৪৯, রাজশাহীতে ৯২, খুলনায় ৩২ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৯৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৭ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ ডোজ। ফলে মোট টিকাদান কভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৮ শতাংশে।
বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে টিকাদানের কভারেজ সবচেয়ে বেশি, ১১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রংপুরে ১০৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং ঢাকায় ১০৮ দশমিক ৭ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আটটি বিভাগই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
সিটি করপোরেশনগুলোতে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৬ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ ডোজ। এ হিসাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের কভারেজ ১০৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুরে টিকাদানের কভারেজ সবচেয়ে বেশি, ১১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১১০ দশমিক ৭ শতাংশ কভারেজ হয়েছে।