নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব

এফএনএস
| আপডেট: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম | প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশও নিশ্চিত করবে-এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ধারাবাহিকভাবে সাইকেল, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত মালামাল চুরির ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সর্বশেষ সাইকেল চুরির ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্বলতা এখন আর বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে। পত্রপত্রিকায় উল্লেখ্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিকার বা স্থায়ী সমাধান মিলছে না। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের চেহারা শনাক্ত হলেও অভিযুক্তকে আটক বা চুরি যাওয়া সম্পদ উদ্ধার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি প্রশাসনের সক্ষমতা ও তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এখন থেকে সাইকেল স্ট্যান্ডে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও প্রশ্ন হলো, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটার পর কেন এ পদক্ষেপগুলো আগে নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও ক্যাম্পাসের পরিধির তুলনায় নিরাপত্তাকর্মীর স্বল্পতা, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব-এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কেবল গেট পাহারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিষয়। পর্যাপ্ত সিসিটিভি, কার্যকর মনিটরিং, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, নিয়মিত টহল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। পরিচয়পত্র বহন, নির্ধারিত স্থানে যানবাহন রাখা এবং সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি দ্রুত প্রশাসনকে জানানো নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব দায়িত্ব কখনোই প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্বকে খাটো করে না। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরির মতো অপরাধকে ছোট ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অপরাধ আরও সংগঠিত রূপ নিতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াবে। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা। নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে