ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনি সালিশ বসিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং ভুক্তভোগী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উন্নয়ন-গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ- ইয়্যাস’। রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় এক ইমেইল বার্তায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন ও সহসভাপতি নারী উন্নয়নকর্মী ফাতেমা আলী মেঘলা যৌথভাবে এই বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি অনতিবিলম্বে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অথবা অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর এবং অভিযুক্ত ধর্ষক ও বেআইনি সালিশকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
ইয়্যাস-এর ৪ দফা দাবি হচ্ছে, বিশেষ স্কোয়াড গঠনে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার, ধর্ষকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, অবৈধ সালিশকারীদের বিচার ও পিবিআই বা সিআইডিতে তদন্ত হস্তান্তর।
প্রকাশিত সংবাদের উদৃতি দিয়ে ইয়্যাস জানায়, গত ৩১ জুলাই রাতে নান্দাইলের একটি বাড়িতে ওই তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন ১ আগস্ট পরিবারের পক্ষ থেকে নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশ বসিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিচারপ্রক্রিয়া রফাদফার অপচেষ্টা করেন, যার মধ্যে ৫ লাখ টাকা মধ্যস্থতাকারীরা নিজেরা পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সালিশ বৈঠকের পর থেকেই ওই তরুণী নিখোঁজ রয়েছেন, যা তাঁর জীবন ও সুরক্ষার ওপর চরম হুমকি তৈরি করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী গণধর্ষণ একটি জামিনঅযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। রাষ্ট্রীয় আইনে যে অপরাধের কোনো আপসের সুযোগ নেই, সেখানে টাকার বিনিময়ে সালিশ বসানো সরাসরি বিচারব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল। দণ্ডবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বেআইনি সালিশকারীরা অপরাধে সহায়তা (অনবঃসবহঃ) ও আলামত নষ্টের অভিযোগে সমানভাবে দায়ী। তারা আরও উল্লেখ করেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং জাতিসংঘের ‘সিডও (ঈঊউঅড)’ সনদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার সমান অধিকার স্বীকৃত। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ভুক্তভোগী নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশের দায়িত্বহীন মনোভাব ও প্রশাসনিক ধীরগতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”