সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম | প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর
ছবি: সংগ্রহীত

বাজারে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মজুদদারির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইনে মজুদদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

বাজার পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। কৃষিপণ্যের ওজনের ক্ষেত্রে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যান। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৃষক যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে এসে অনেক সময় ন্যায্য দাম পান না। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে তাদের জিম্মি করে রাখছে। বাজারের মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমিয়ে প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শৈলকূপার বাজারে ওজনের সময় অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক মণ পাট বা পেঁয়াজের ক্ষেত্রে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই কেজি পর্যন্ত ‘তোলা’ নেওয়া হয়। এর বাইরে বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়াদের পক্ষ থেকেও কৃষকদের কাছ থেকে তোলা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এক মণ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষককে প্রায় ৪৫ কেজি পণ্য দিতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অনায্য।” এ ধরনের প্রথা বন্ধ করে কৃষককে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরেক ব্যবসায়ীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে তিনি শৈলকূপার বাজার পরিদর্শন করেন।

সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত তোলা আদায়ের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যবসায়ী নির্ধারিত পরিমাণের বেশি পণ্য না দিলে কৃষকের কাছ থেকে মাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন। তাদের এমন আচরণ থেকে সরে আসতে হবে।

তিনি বলেন, “যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলবো, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।”

আইনমন্ত্রী জানান, দেশের সব হাট ও বাজারে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সব খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হন, সরকার সে লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।

মজুদদারদেরও সতর্ক করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুদদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সুতরাং যারা মজুদদারি করবেন, তারা ভেবেচিন্তে করবেন।”

তিনি আরও বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানো কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেবো।” প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথাও জানান তিনি।

শৈলকূপা বাজার পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে