প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ঢাকার মনিপুর, পূর্ব মনিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রাথমিক তদন্ত ও পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে গাজী সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে বগুড়ায় নিয়ে এসে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে।
পরে সমালোচনার মুখে গাজী সালাউদ্দিন পোস্টটি মুছে ফেলেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গাজী সালাউদ্দিনের ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে।
মাফতুন আহমেদ খান রুবেলের অভিযোগ, বিষয়টি দলের নেতাকর্মীদের নজরে আসার পর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এজাহার গ্রহণের পর মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গাজী সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে গাজী সালাউদ্দিনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সিলেট ও হবিগঞ্জে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে গাজী সালাউদ্দিন তারেক রহমানকে নিয়ে এক লাইনের একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে তিনি সেটি মুছে দেন এবং ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সারজিস আলম বলেন, পোস্টটি দেওয়া উচিত হয়নি বুঝতে পেরে গাজী সালাউদ্দিন সেটি সরিয়ে নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার কথা জানিয়েছেন। এরপরও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিএনপির রাজনৈতিক আচরণেরও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন যে ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিএনপি কথা বলেছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর একই ধরনের আচরণ তারা করছে।
একই পোস্টে সিলেটে ছাত্রদলের হামলায় ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস আলম।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে গাজী সালাউদ্দিনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এনসিপি। দলের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
গত শুক্রবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়, দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে গাজী সালাউদ্দিনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়।
গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে এর আগেও দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল সরকারি চাকরিতে নিয়োগে অনিয়ম এবং পাঠ্যবই ছাপার কাগজে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তিনি আবার এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।
এবার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ঢাকার মনিপুর, পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।