৫ আগস্ট উদ্বোধন, ৬ আগস্ট থেকে সবার জন্য খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম | প্রকাশ: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
৫ আগস্ট উদ্বোধন, ৬ আগস্ট থেকে সবার জন্য খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, বুধবার সকাল ৯টায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখবেন। সেখানে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র ও দলিলপত্রের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা গণঅভ্যুত্থানের সময়ের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করবেন। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনা থাকবে। এর মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরার আয়োজন রাখা হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাদুঘরের মহাপরিচালক অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্দোলনের আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক, অডিও-ভিডিও উপকরণ এবং শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর মধ্য দিয়ে দলটির দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। রক্তক্ষয়ী ওই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

জাদুঘরটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মারক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখানে আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস বিভিন্ন নিদর্শন ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, উদ্বোধনের পরদিন ৬ আগস্ট থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি যুদ্ধাহত পরিবারগুলোর জন্য উন্মুক্ত রাখার তথ্যও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

জুলাই জাদুঘর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে এই জাদুঘর। ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি খুলে দেওয়ার কথা থাকায় জুলাইয়ের ইতিহাস ও আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন দেখার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষও।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে