রাজধানীর ব্যস্ত বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলমুখী মানুষ। সড়কে বাসের বিশৃঙ্খলভাবে যাত্রী ওঠানামা, লেন শৃঙ্খলা না মানা এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে রোববার (২ আগস্ট) সকালে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বনানী-কাকলি পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে। মাটিকাটা ফ্লাইওভার হয়ে ইসিবি চত্বর পর্যন্তও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
রোববার সকাল সোয়া ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে সড়কের বিভিন্ন অংশে যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শুরু হওয়া যানজট বনানী-কাকলি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অন্যদিকে মিরপুরমুখী সড়কে মাটিকাটা ফ্লাইওভার হয়ে ইসিবি চত্বর পর্যন্ত যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বাসগুলো নির্ধারিত স্থান না মেনে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এতে সড়কের একটি অংশে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কুড়িল ফ্লাইওভারে ওঠার সময় এবং বিমানবন্দরমুখী যানবাহনের অনেক চালক লেন শৃঙ্খলা মানছেন না।
তবে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার অংশ এবং কুড়িল ফ্লাইওভারের ওপর যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। এর প্রভাব পড়ে পেছনের সড়কে। বনানী-কাকলি থেকে কুড়িল পর্যন্ত এবং ইসিবি চত্বর থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল পর্যন্ত মাটিকাটা ফ্লাইওভারে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় অফিসগামী যাত্রীদের। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কা করেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকার বদলায়, কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।”
তিনি বলেন, বাসগুলো নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা করালে এবং চালকেরা লেন শৃঙ্খলা মেনে চললে এমন যানজট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। বিমানবন্দরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলো নির্দিষ্ট লেন ব্যবহার করা এবং কুড়িল ফ্লাইওভারে ওঠার গাড়িগুলো আগে থেকেই সঠিক লেন ধরে চললেও যানজট কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির অনিয়মিত পার্কিং, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে যানজট নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কার্যকর তদারকি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা না হলে এ ধরনের ভোগান্তি কমানো কঠিন হবে।