পুলিশের বাধা পেরিয়ে থানায় গেলেন এনসিপি নেতারা, হামলার ঘটনায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
পুলিশের বাধা পেরিয়ে থানায় গেলেন এনসিপি নেতারা, হামলার ঘটনায় অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে দলটি। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগটি দাখিল করে। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর এনসিপির নেতারা অভিযোগ দাখিলের সুযোগ পান। পরে অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগটি হবিগঞ্জ সদর থানায় পাঠানো হয়। অভিযোগের বিষয়টি বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ দাখিলের সময় নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এনসিপির সদস্যসচিব নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু, সারোয়ার আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ জমা দেওয়ার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “রাতের মধ্যে যদি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব দেশে অন্তত কিছুটা হলেও আইনের শাসন রয়েছে। আর যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব এটি একটি মাফিয়া সরকার।”

এর আগে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর একাধিক জায়গায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। দুপুর ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে গাড়িবহর নিয়ে হবিগঞ্জের দিকে যাত্রা করেন নাহিদ ইসলাম ও দলের নেতারা।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল সড়কের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারোয়ার আলমসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে ঠেলে গাড়িবহর সামনে এগিয়ে নেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এরপর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে গাড়িবহরটি। এ সময় নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে সড়কে বসে পড়েন। দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ এনসিপির পাঁচ নেতাকে অভিযোগ দাখিলের জন্য কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেয়। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় তাদের সেখানে নেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। দলটির নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এতে এনসিপির নেতাকর্মী ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। এদিকে বিএনপি ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় বুধবার সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত আদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার নির্ধারিত স্থানে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়।

এনসিপির নেতাদের হামলার ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে এর আগে জানিয়েছিলেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল হক। তিনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা সদরে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

হবিগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার দিনভর এনসিপির নেতাদের চলাচল, পুলিশের বাধা এবং ১৪৪ ধারা নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। শেষ পর্যন্ত রাতে লিখিত অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ নিল দলটি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে