ঝিনাইদহের শৈলকুপা শাহী মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মসজিদটির মোতাওয়াল্লী মীর শামসুজ্জামান পান্না। তাঁর দাবি, গৎ ২৫ মাসে মসজিদের মোট আয় হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫৮১ টাকা। অথচ বিভিন্ন মাধ্যমে ৬১ লাখ টাকা আয়ের যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ২টায় শৈলকুপা শাহী মসজিদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে মীর শামসুজ্জামান পান্না জানান, তিনি শৈলকুপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শৈলকুপা শাহী মসজিদের মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ ও বাংলাদেশ ওয়াক্ফ স্টেটের অডিট ইন্সপেক্টরের কাছে জমা দিয়েছেন। অডিট টিম হিসাব পর্যালোচনা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, গৎ ২৫ মাসে মসজিদে ৬১ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর অর্ধেক খাদেমরা নিয়েছেন এবং বাকি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই। এ ধরনের সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে গৎ ২৫ মাসে মসজিদের আয় হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫৮১ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৫ টাকা। হিসাব অনুযায়ী অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৮৫৬ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি অডিট ইন্সপেক্টরের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত প্রতিবেদন এবং বাৎসরিক ট্যাক্স প্রদানের কপি সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়েছে। সাংবাদিকরা এসব নথি যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য জানতে পারবেন। মসজিদের প্রাচীর নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সীমানার ১১টি ছোট-বড় মেহগনি গাছ বিক্রি করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি মুসল্লিরা ২ লাখ ১২ হাজার টাকা অনুদান দেন। এসব অর্থসহ প্রাচীর নির্মাণকাজে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে নির্মাণকাজে আরও ৩২ হাজার ১৩৫ টাকার নির্মাণ সামগ্রীর টাকা ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে মসজিদের ইমামের কাছ থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে উপস্থিত ইমাম ও খাদেমদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান। খাদেমদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমেই মসজিদের বিভিন্ন ব্যয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মীর শামসুজ্জামান পান্না বলেন, একটি মহল তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়ার ওয়াকফ্ হিসাব নিরীক্ষক মো: নাজমুল হাসান জানান, ইসি নং-১১৩৮, বাদশা হুসাইন শাহ ও/এ শৈলকুপা, ঝিনাইদহ এর বিগত ও চলতি অর্থ বছরের হিসাব নিরীক্ষা করে কোন অসংগতি পাওয়া যায়নি।