সৈয়দপুরে

সরকারি অভিযানের বিরুদ্ধে আন্দোলন, স্থানীয়দের বাধায় অবরোধ পণ্ড

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
সরকারি অভিযানের বিরুদ্ধে আন্দোলন, স্থানীয়দের বাধায় অবরোধ পণ্ড

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি, জমি নিয়ে বিরোধ এবং শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কাস্টমসের অভিযানের পর শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করে দিয়ে সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধে নামানোর অভিযোগ উঠেছে কোম্পানি মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স যথাযথভাবে পরিশোধ করছেন না। এলাকার মানুষের জমিতে কারখানা গড়ে উঠলেও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে তেমন সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং বাইরের লোকজনকে বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসার ওয়াক্ফ সম্পত্তি ক্রয় করে কোম্পানির সীমানার মধ্যে নেওয়া এবং সরকারি খাসজমি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ না করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গৎ ৩ নভেম্বর কোম্পানিতে অভিযান চালায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলে। পরে কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চাইলে তাঁদের বিভিন্নভাবে বিব্রত ও অপদস্থ করা হয়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপ জব্দ করে নিয়ে যান কর্মকর্তারা। এরপরই নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকদের বলা হয়, কাস্টমসের নেওয়া ল্যাপটপ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামতেও শ্রমিকদের উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় গৎ ৫ নভেম্বর শ্রমিকরা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আটকা পড়েন শত শত যাত্রী। জরুরি প্রয়োজনে দূরদূরান্তে যাতায়াতকারী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে স্থানীয় সচেতন মানুষ ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কোম্পানির মালিক ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন কি না, তা দেখার দায়িত্ব কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। এটি শ্রমিকদের দেখার বিষয় নয়। শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করেছেন মালিক। বেতনের দাবিতে আন্দোলন হলে তা মালিকের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত, সরকারের বিরুদ্ধে নয়। অথচ শ্রমিকদের দিয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক অবরোধের কারণে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বেতন না দিলে শ্রমিকরা মালিকের বিরুদ্ধে কোম্পানির ভেতরে অবস্থান নিতে পারেন। কিন্তু সরকারি কাজে বাধা দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার যৌক্তিকতা নেই। তাই স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমড়া তাঁদের অবরোধ থেকে সরিয়ে দিই।

তবে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। মালিকপক্ষের দাবি, তাঁরা শ্রমিকদের আন্দোলন করতে বলেননি। এ ঘটনায় কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা ভ্যাট-ট্যাক্স, জমি এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে