পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। এই প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করেছেন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আক্তার হোসেন ফেকু।
এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, আবার কেউ হয়েছে অকৃতকার্য। তবে পরীক্ষার ফলাফলই যেন জীবনের শেষ কথা না হয় এমন ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান।
৫ নভেম্বর রাতে সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় নিজ বাসভবনে এ আয়োজন করেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও সমাজসেবক আক্তার হোসেন ফেকু। অনুষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও অকৃতকার্য উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন অতিথিরা। তারা বলেন, সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, জেলা বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি কাজি একরামুল হক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রশিদুল হক সরকার,সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল, সৈয়দপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার শাহ,মুন্সিপাড়া বায়তুল ফালাহ মসজিদের ইমাম হাফেজ রিজওয়ান, মুন্সিপাড়া জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদের মোয়াজ্জেম বেলাল হোসেনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আবু নাসিম মিঠু, জেলা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব ও পরিবহণ ব্যবসায়ী আরমান হামিদ,ক্যাব সৈয়দপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সৈয়দপুর শাখার সভাপতি সাংবাদিক ওবায়দুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেন, আরশাদ হোসেনসহ অনেকে।
মিলাদ মাহফিলের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক আক্তার হোসেন ফেকু। জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। আর যারা উত্তীর্ণ হতে পারনি, তারা মণ খারাপ না করে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হও। চেষ্টা অব্যাহত রাখলে নিশ্চয়ই সফলতা আসবে। পরে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি শেখ খুরশীদ নূরী। শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং হতাশার সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগানোর এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এমন প্রত্যাশা আয়োজক ও উপস্থিত সুধীজনের।