সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ডের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠান তিনটির পাসের হার শূন্য। অন্যদিকে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। গত ছয় বছরের মধ্যে এবারই শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে কম। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই পরিসংখ্যানে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের এই চিত্র উঠে এসেছে বোর্ডের গত ছয় বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে সিলেট বোর্ডের ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। ২০২২ সালে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১১টিতে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল আটটি করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে তা আরও কমে ছয়টিতে নেমে এসেছে। শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমার পাশাপাশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর বোর্ডের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে ২০২৫ সালে চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। চলতি বছর সেই সংখ্যা তিন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের পাশাপাশি সামগ্রিক ফলেও পিছিয়ে রয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। সে হিসাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা ঘটছে। সামগ্রিক পাসের হারের নিম্নমুখী চিত্রের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই ফলাফল সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।