ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ২৮ পয়েন্টের। ২০২৬ সালের পুরস্কারের ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পর দেখা গেছে, ১০০ দেশের সাংবাদিকের ভোটে ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার কেইন পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা এমবাপ্পের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। বর্তমান ভোটপদ্ধতি চালুর পর এত কম ব্যবধানে আর কোনো খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর জেতেননি।
ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী ভোটের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, কেইন ১০০ জন সাংবাদিকের মধ্যে ৪০ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন। এমবাপ্পেকে প্রথম স্থানে রেখেছেন ২৩ দেশের প্রতিনিধি। দুই তারকার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছে ভোটারদের দেওয়া মোট পয়েন্ট।
২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কেইন। এর আগে সবচেয়ে কম ব্যবধানে এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড ছিল ৪১ পয়েন্টের। ২০২৪ সালে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ওই ব্যবধানে পেছনে ফেলে পুরস্কার জিতেছিলেন স্পেনের রদ্রি। ২০১৯ সালে লিওনেল মেসি মাত্র ৭ পয়েন্টে ভার্জিল ফন ডাইককে হারিয়েছিলেন। তবে বর্তমান ভোটপদ্ধতির হিসাবে কেইনের জয়ই সবচেয়ে কম ব্যবধানের।
চতুর্থ হয়েছেন স্পেন ও ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি। তাঁর পয়েন্ট ৭২৬। ১০টি দেশের প্রতিনিধি তাঁকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। পঞ্চম স্থানে থাকা আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির পয়েন্ট ৬১২। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পানামা, বেলারুশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সাংবাদিক তাঁকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভোট দিয়েছেন।
ষষ্ঠ স্থানে জর্জিয়ার খভিচা কাভারাসখেলিয়া পেয়েছেন ৫৪১ পয়েন্ট। সপ্তম উসমান দেম্বেলের পয়েন্ট ৪১৮। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড ৩৭৮ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম হয়েছেন। নবম স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে পেয়েছেন ২৯৬ পয়েন্ট। আর দশম হয়েছেন পিএসজির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ, তাঁর পয়েন্ট ২০১।
পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছেন জুড বেলিংহাম ১০৭, পাউ কুবারসি ১০১, আশরাফ হাকিমি ৬৫, ভিতিনিয়া ৫৯, ডেকলান রাইস ৫৭ এবং ফেরান তোরেস ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে। ১৭তম স্থানে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পয়েন্ট ২৬। মার্ক কুকুরেয়া ১৬, জোয়াও নেভেস ১৫, উইলিয়ান পাচো ১২ এবং আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল ও ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্তিনেজ ১১ পয়েন্ট করে পেয়েছেন।
২৩তম স্থানে নুনো মেন্দেস ও ২৪তম স্থানে লুইস দিয়াজের পয়েন্ট ৮ করে। মার্কিনিওস পেয়েছেন ৭, দায়ো উপামেকানো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ ৫ করে এবং হুলিয়ান কুইনোনেস ৪ পয়েন্ট। শেষ দুই অবস্থানে থাকা সাদিও মানে ও উইলিয়াম সালিবা পেয়েছেন ২ পয়েন্ট করে।
ইয়ামালকে সেরা দশে রাখেননি বেলারুশ, ক্যামেরুন, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসের সাংবাদিকেরা। অন্যদিকে রদ্রি নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, সার্বিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ক্রোয়েশিয়া ও আইসল্যান্ডের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রথম স্থানসূচক ভোট পেয়েছেন।
দশম হওয়া ফাবিয়ান রুইজকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন গ্যাবন, পেরু, সিরিয়া ও ইউক্রেনের সাংবাদিকেরা। মেসির ক্ষেত্রে প্রথম স্থানসূচক ভোট এসেছে ছয়টি দেশ থেকে। এর মধ্যে ব্রাজিলের ভোটও রয়েছে।
এমবাপ্পেকে ঘিরেও কয়েকটি দেশের ভোটে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চীনের প্রতিনিধি তাঁকে পঞ্চম স্থানে রেখেছেন। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানো প্যারাগুয়ের প্রতিনিধি তাঁকে তৃতীয় স্থানে ভোট দিয়েছেন। আফ্রিকার ২০টি দেশের মধ্যে ৯ দেশের প্রতিনিধি এমবাপ্পেকে প্রথম স্থান দিয়েছেন।
গতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলেকে কোনো দেশের প্রতিনিধি এবার প্রথম স্থানে রাখেননি। তবে বুরকিনা ফাসো, চীন, ফ্রান্স, জর্জিয়া, হাইতি, উত্তর মেসিডোনিয়া ও নাইজেরিয়ার সাংবাদিক তাঁকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছেন। হলান্ডও কোনো দেশের কাছ থেকে প্রথম স্থানসূচক ভোট পাননি। ক্রোয়েশিয়া, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের প্রতিনিধি তাঁকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছেন।
মাইকেল অলিসের ক্ষেত্রে প্রথম স্থানসূচক ভোট এসেছে মাত্র একটি দেশ থেকে। সেটি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও।
এবারের পুরস্কারের জন্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত। প্রত্যেক সাংবাদিক সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করেন। প্রথম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২, তৃতীয় ১০, চতুর্থ ৮, পঞ্চম ৭, ষষ্ঠ ৫, সপ্তম ৪, অষ্টম ৩, নবম ২ এবং দশম স্থানের জন্য ১ পয়েন্ট বরাদ্দ ছিল।
অর্থাৎ শুধু কতজন সাংবাদিক কোনো খেলোয়াড়কে প্রথম স্থানে রেখেছেন, সেটিই বিজয়ী নির্ধারণ করে না। প্রত্যেক ভোটারের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়। কেইন ও এমবাপ্পের মধ্যে ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানও এই হিসাবের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে।
নারী বিভাগের ৫০ জন বিচারকের মধ্যে ২৮ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন পুতেয়াস। ফলে দুই বিভাগের ভোটের হিসাবেই এবার আলোচনায় এসেছে অল্প ব্যবধান, প্রথম স্থানসূচক ভোট এবং বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের পছন্দের ভিন্নতা।