শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সিন্দুরখান রোডের কাকিয়ার পুল এলাকায় পাকা সড়কের পাশে ফুটেছে ছাতিম ফুল। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাছটির ফুলের ছবি তোলা হয়। হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে ফোটা এই ফুলের মিষ্টি, তীব্র সুবাস সন্ধ্যা থেকে রাতের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফুলের ঘ্রাণ মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। নামে পরিচিত। সংস্কৃত নাম সপ্তপর্ণী। গাছটির পাতাগুলো সাধারণত একই স্তরে চক্রাকারে সাজানো থাকে; একটি স্তরে প্রায় চার থেকে সাতটি পাতা দেখা যেতে পারে। এ বৈশিষ্ট্য থেকেই সপ্তপর্ণী নামটির প্রচলন।চিরসবুজ ছাতিমগাছে সাধারণত শরৎ ও হেমন্তকালে ফুল ফোটে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এর ফুল ফোটার মৌসুম হলেও অক্টোবর-নভেম্বরে ফুলের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে। ছোট ছোট সবুজাভ সাদা কিংবা হালকা ঘিয়ে রঙের ফুল গুচ্ছবদ্ধভাবে ফোটে। আকারে ছোট হলেও ফুলগুলোর তীব্র মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাতের বেলায় এই ঘ্রাণ আরও বেশি অনুভূত হয়।হেমন্তে প্রকৃতিতে যখন ফুলের সমারোহ কিছুটা কমে আসে, তখন ছাতিম ফুল তার অনন্য সুবাস নিয়ে হাজির হয়। গোধূলির মায়াবী আলোয় কিংবা রাতের নির্জনতায় বাতাসে ভেসে আসা ছাতিমের ঘ্রাণ প্রকৃতিতে সৃষ্টি করে অন্য রকম আবেশ। অনেক সময় গাছটি চোখে না পড়লেও এর সুবাস জানান দেয় আশপাশে ছাতিমের উপস্থিতি।ছাতিম গাছ দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। উপযুক্ত পরিবেশে গাছটি প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর ছাল ধূসর, শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত এবং পাতাগুলো চকচকে সবুজ। গাছের ওপরের অংশ ছাতার মতো ছড়িয়ে থাকে। ফুল ফোটার মৌসুমে শাখায় শাখায় অসংখ্য ফুলের গুচ্ছ গাছটিকে দেয় ভিন্ন সৌন্দর্য।একসময় গ্রাম ও শহরের রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ছাতিম গাছের দেখা মিলত। বর্তমানে অনেক এলাকায় আগের মতো চোখে পড়ে না এই গাছ। তবে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ছাতিম ফুলের সুবাস এখনো হেমন্তের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ।ছাতিমের কাঠ দিয়ে পেন্সিল, দেশলাইসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হয়। গাছটির ছাল ও অন্যান্য অংশ ঐতিহ্যগত ভেষজ ব্যবহারের জন্যও পরিচিত
শ্রীমঙ্গলের সন্ধ্যার বাতাসে ছাতিম ফুলের সুবাস যেন প্রকৃতির এক নীরব ঘোষণা-দুয়ারে এসেছে হেমন্ত। ফুলের রং হয়তো দূর থেকে সহজে চোখে পড়ে না, কিন্তু এর ঘ্রাণ হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অনির্বচনীয় মুগ্ধতা।