হাঁটতে বের হয়ে মোটরসাইকেলের চাঁপায় সজল কুমার চক্রবর্তী (৬০) নামের এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সজল কুমার চক্রবর্তী (৬০) বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোড এলাকার দক্ষিণা রঞ্জন চক্রবর্তীর ছেলে। তার মৃত্যুতে বরিশালের আদালত পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্পর্শকাতর বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করে আসা সজল কুমার চক্রবর্তীকে পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল চাঁপা দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ আশঙ্কায় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাহ্ আলম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে সিনিয়র আইনজীবী সজল কুমার চক্রবর্তী সদর রোডের রাস্তা পারাপারের সময় একটি মোটরসাইকেল তাকে চাঁপা দিয়ে গুরুত্বর আহত করে। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, স্পর্শকাতর বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করছিলেন অ্যাডভোকেট সজল কুমার চক্রবর্তী। তাই তার এমন মৃত্যু স্বাভাবিক চোখে দেখছে না সহকর্মীরা। আইনজীবীদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। কারণ এটি দুর্ঘটনা না হয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। এ ঘটনায় থানা পুলিশের সদস্যরা একজনকে আটক করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আইনজীবীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অবশ্যই যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘাতক মোটরসাইকেলের এক আরোহীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল চালককেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল চন্দ্র শীল জানিয়েছেন, সকাল পৌনে সাতটার দিকে সিনিয়র আইনজীবী সজল কুমার চক্রবর্তীকে মুমূর্ষ অবস্থায় সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে সকাল আটটার পর তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের লাশ রাখা ঘরে রাখা হয়েছে। যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।