সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা নেওয়া হলেও নদী থেকে বালুর পাশাপাশি পাথরও তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা যায়, যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালে ইজারার শর্ত অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা। কিন্তু বাস্তবে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক সেইভ মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বালুমহালের বিভিন্ন স্থান থেকে পাথরও উত্তোলন করা হচ্ছে। বুধবার সরেজমিনে লাউরেরগড় বাজারের পাশে শ্রমিকদের বারকি নৌকায় করে পাথর এনে স্তূপ করে রাখতে দেখা যায়। পরে এসব পাথর পিকআপে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বালুমহালের মধ্যে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের এমন কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
যান্ত্রিক পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর তীর, সড়ক, বসতবাড়ি, সরকারি খাসজমি ও আশপাশে ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। বালুমহালের ইজারা নিয়ে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন তাহিরপুর উপজেলার বড়গোপটিলা এলাকার মো. বাছির (৩৭) ও মো. মোসাদ্দেক (৪৫)। তাঁদের প্রত্যেককে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএমএসআর আলিফ বলেন, যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের বর্তমান ইজারাদার তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী মো. নাছির মিয়া। বালুমহাল থেকে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বালুমহাল ইজারা নিয়েছি। কারা পাথর তোলে, তা আমি জানি না।’ তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, ‘আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি। কেউ যদি বালুর আড়ালে পাথর তোলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে আমরা দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি।’