গাইবান্ধায়

শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটক ২

এফএনএস গাইবান্ধা: | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটক ২

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক নারীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করেছেন চার আসামি। এ সময় জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। অপর দুই আসামিকে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুর রহমান এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চক নারয়ন গ্রামের আলমঙ্গীর আকন্দের ছেলে মো. সালেহীন আকন্দ (২৪) ও রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবং বৈষ্ণবদা গ্রামের মফিজ উদ্দিন মাষ্টারের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৪০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার। তিনি জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার চার আসামি মঙ্গলবার আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক প্রথম দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে অপর দুই আসামি শ্রী প্রদীপ কুমার ও রবিউল আকন্দকে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, এর আগে তিনি দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলা দায়েরের পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রথম আসামি সালেহীন আকন্দ ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় আসামি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামও এসব ছবি ও ভিডিও প্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী নারী সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এবং তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী নারী আইনের আশ্রয় নিলে তার অভিযোগের ভিত্তিতে সাদুল্লাপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২) ও ৮(৭) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার চার আসামি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ ও জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং অপর দুই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার বাদী বলেন, আমি একজন স্কুল শিক্ষিকা। আমার সম্মানহানি করে আমাকে সমাজের কাছে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি অনেক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোয় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা বেড়েছে। আমি কারও কাছে প্রতিশোধ চাই না, শুধু ন্যায়বিচার ও নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।

অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার বলেন, নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তার সম্মানহানির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা চাই, মামলার অভিযোগ ও উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে