সন্তানকে ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ শেখানোর সঠিক সময় কোনটি?

এফএনএস লাইফস্টাইল | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
সন্তানকে ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ শেখানোর সঠিক সময় কোনটি?

শিশুকে শরীরের নিরাপত্তা সম্পর্কে কখন শেখানো শুরু করা উচিত, তা নিয়ে অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন থাকে। কেউ ভাবেন, খুব ছোট বয়সে এসব বিষয় বোঝানো ঠিক হবে কি না। আবার কেউ অস্বস্তি বা সংকোচের কারণে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না। কিন্তু শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ চেনার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই শিশুকে সহজ ভাষায় শরীরের বিভিন্ন অংশ, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শেখানো শুরু করা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার ধরনও পরিবর্তন করতে হবে। শুধু একবার বুঝিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়; নিয়মিত কথাবার্তা ও অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুকে বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করতে হবে।

২-৩ বছর: শরীরের বিভিন্ন অংশ চিনতে শেখান

এই বয়সে শিশুকে শরীরের বিভিন্ন অংশের সঠিক নাম শেখানো যেতে পারে। ব্যক্তিগত অঙ্গ বা গোপনাঙ্গ সম্পর্কেও বয়সোপযোগী ভাষায় ধারণা দিন। বোঝান, শরীরের কিছু অংশ ব্যক্তিগত এবং সেগুলোর যত্ন ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে এটাও শেখান, তার শরীর নিয়ে অস্বস্তি হলে সে আপনাকে জানাতে পারে। তবে পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা কিংবা যত্নের প্রয়োজনে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাহায্য করতে পারেন-এ বিষয়টিও সহজভাবে বোঝানো দরকার। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে বড়দের, সেটিও স্পষ্ট করুন।

৪-৫ বছর: নিরাপদ ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের পার্থক্য বোঝান

এই বয়সে শিশুকে বোঝানো যায়, কোন স্পর্শ তার কাছে স্বস্তিকর এবং কোন আচরণে অস্বস্তি বা ভয় লাগতে পারে। তবে শুধু অনুভূতির ওপর নির্ভর করে নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শের পার্থক্য শেখানো যথেষ্ট নয়। কখনো পরিচিত ব্যক্তির আচরণও অনুপযুক্ত হতে পারে, আবার চিকিৎসা বা পরিচর্যার প্রয়োজনে কোনো স্পর্শ প্রয়োজনীয় হতে পারে। শিশুকে বলুন, কেউ এমনভাবে স্পর্শ করলে যাতে সে অস্বস্তি বোধ করে, তাহলে সে ‘না’ বলতে পারে, সেখান থেকে সরে যেতে পারে এবং বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে পারে। কোনো পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে চুপ করে গেলেও তার কোনো দোষ নেই-এ কথাও তাকে বুঝিয়ে বলা জরুরি।

৬ বছর বা তার বেশি: আত্মরক্ষার কৌশল শেখান

শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত সীমারেখা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে বোঝানো যায়। কেউ অনুপযুক্ত স্পর্শ করতে চাইলে বা কোনো অস্বস্তিকর ঘটনা গোপন রাখতে বললে শিশুকে বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে উৎসাহিত করুন। তাকে বুঝিয়ে বলুন, কেউ উপহার দেওয়া, ভয় দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেও অনুপযুক্ত আচরণ গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। মা-বাবা, শিক্ষক বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া যায়। একজনকে জানিয়ে সমাধান না হলে অন্য বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে হবে-এটিও শেখানো যেতে পারে।

শিশুর শরীর ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা যেন কোনো ভয় বা লজ্জা ছাড়াই প্রশ্ন করতে পারে, সে জন্য বাড়িতে খোলামেলা পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। গল্প, ছবি কিংবা দৈনন্দিন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বয়স অনুযায়ী বিষয়গুলো বোঝানো যেতে পারে। তবে ভয় দেখিয়ে বা অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরি করে শেখানো উচিত নয়। বরং শিশুকে বোঝাতে হবে, নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অনিরাপদ পরিস্থিতিতে সাহায্য চাওয়া তার অধিকার।