কালীগঞ্জে ছাত্র শিবিরকর্মী শামীম হত্যা মামলায় ওসির সম্পৃক্ততা অস্বীকার বাদীর

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
কালীগঞ্জে ছাত্র শিবিরকর্মী শামীম হত্যা মামলায় ওসির সম্পৃক্ততা অস্বীকার বাদীর

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ছাত্রশিবিরকর্মী শামীম হত্যা মামলা ঘিরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলমকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।বিগত ২০১৬ সালে শামীম হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় ইমরান আলমের নাম থাকলেও তাঁর হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী নিহত শামীমের বাবা রুহুল আমিন। ওসি ইমরান আলম বলছেন, তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যায়নি। তিনি সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে ঝিনাইদহ মহেশপুর থানায় যোগদানের পর পুরোনো মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।  মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাকুলিয়া গ্রামের ছাত্র শিবিরকর্মী শামীম হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা রুহুল আমিন আদালতে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার প্রাথমিক আসামির তালিকায় ইমরান আলমের নাম ছিল। পরে ৬ জনের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ইমরান আলম ছিলেন।মামলার বাদি রহুল আমিনের দাবি, সে সময় কয়েকজনের প্ররোচনায় পড়ে তিনি একাধিক ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরে জানতে পারেন ইমরান আলমসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর ছেলের হত্যাকান্ডের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ কারণে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং ইমরান আলমের পক্ষে হলফনামা দেন। ওসি ইমরান আলম জানান, তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক(এসআই)হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালে কালীগঞ্জের দুই তরুণ যশোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটির নম্বর ৬৪, তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৬। দন্ডবিধির ৩০৪/৩৪ ধারায় করা মামলাটির বাদী ছিলেন রুহুল আমিনের শ্যালক ইমরান হোসেন।মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে এবং ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর আদালত তা গ্রহন করেন। তবে ওই মামলার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে শামীম হত্যা ঘটনায় করা মামলার সম্পর্ক এবং দুই মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। ওসি ইমরান আলমের বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে বাদী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করে হলফনামা দেন। তাঁর দাবি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পক্ষ থেকে মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সুপারিশসহ সাক্ষ্য স্মারকলিপি প্রায় এক বছর আগে জমা দেওয়া হয়েছে।চলদি মাসের ১০ অক্টোবর ইমরান আলম মহেশপুর থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন। ইমরান আলমের অভিযোগ, কিছু ব্যাক্তি অর্থের লোভে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন। এ বিষয়ে তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি এএইচ মর্তূজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বর্তমান জেলা প্রশিক্ষন সম্পাদক মাওলানা ওলিযার রহমান বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামলাটি করা হয়। সে সময় তিনি উপজেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী মামলার বাদী হন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে মামলায় ইমরান আলমের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।ইমরান আলম ভালো মানুষ মামলায় তাঁর নাম আসা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাদীর পরিবার ও ওসি ইমরান আলমকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর বক্তব্য, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তির মুখে না পড়েন। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, মামলাটি ২০২৪ সালে করা হয়। সংগঠনের একটি দল মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং মামলার খরচ সংগঠন বহন করে। নিহত শামীমের বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়েছেন বলে তিনি জানান। ইমরান আলমের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর নাম আগে বিস্তারিত ভাবে জানা ছিল না। তবে অন্যদের কাছে তাঁর সম্পর্কে ভালো কথা শুনেছেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিই তিনি চান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে