দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের বাসিন্দা। অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, খুলনায় ১৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ১১৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০ জন, রংপুর বিভাগে ৩৮ জন এবং সিলেট বিভাগে দুজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৯৯।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৮০১ জন। এ সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন ১৪৮ জন, যা এ বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। মে মাসে মারা যান একজন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১৭৯ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, চট্টগ্রামে ৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৩০ জন, বরিশালে ২৮ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, রংপুরে সাতজন এবং সিলেটে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিত হালনাগাদ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অক্টোবর মাসেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মৃত্যুর তথ্য আসায় রোগটির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে রয়েছে।