জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, দলটি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করেছে। অথচ এখন জামায়াতের নেতারা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যেন অতীতে তারা কারও সঙ্গে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চাপরাইলে আবু বক্কর বিশ্বাস মকসেদ আলী কলেজে মাদক, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।রাশেদ খান বলেন, জামায়াত অতীতে জাতীয় পার্টির শাসনামলে এরশাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট করে মন্ত্রিত্বের ভাগ নিয়েছে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছে।আওয়ামী লীগের সঙ্গেও দলটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, জামায়াতের বর্তমান নেতাদের বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির কখনো মিথ্যা কথা বলেননি, এমন দাবি গ্রহনযোগ্য নয়। একজন রাজনৈতিক নেতাকে অতিমানবীয় বা ভুলের ঊর্ধ্বে হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে সেসব ভুল স্বীকার করে সংশোধনের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার জন্য জামায়াত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানি কভাবে ক্ষমা চেয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব দলটিকে দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, অতীতের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।