পথ দখল, পিটিয়ে জখম ঘটনায় মামলার আসামীদের ষড়যন্ত্রে বাদী মাজেদ অসহায়

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
পথ দখল, পিটিয়ে জখম ঘটনায় মামলার আসামীদের ষড়যন্ত্রে বাদী মাজেদ অসহায়

আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ চাপড়া গ্রামের ইসমাইল গাজীর ছেলে আঃ মাজেদ প্রতিপক্ষের রোষাণলে পড়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। আঃ মাজেদ দক্ষিণ চাপড়া মৌজায় খাস খতিয়ানভুক্ত এসএ দাগ ১১৭৯, হাল দাগ ২৮৮১ জমিতে ডিসিআর নিয়ে ২০১২ সাল থেকে ঘরবেধে বসবাস করেন। তারসহ ৫টি পরিবারের যাতয়াতের জন্য খাস জমির উপর দিয়ে পথ রাখা ছিল। পথটি জাহাঙ্গীর ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করে নিলে বিভিন্ন অফিস ও স্থানে ধর্না দিয়ে শেষে গ্রাম্য শালিসে মিমাংসা হয়। কিন্তু শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় উপায় অন্তর না দেখে মাজেদ অতিঃ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাতক্ষীরায় পি-৭৪১/২৬ (আশা) মামলা করেন। মামলা হলে প্রতিপক্ষ ঘেরা বেড়া উঠিয়ে আংশিক ভাবে পথ খুলে দিলেও সজিনা-কলাগাছ উঠিয়ে নেয়নি বরং মামলা তুলে নিতে মাজেদকে হুমকি ধামকি দেয়। বাধ্য হয়ে মাজেদ বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাতক্ষীরায় ২/৯/২৬ তাং পি-৭১৪/২৬ মামলা করেন। মামলায় ২৪/৯/২৬ তাং মুচলেকা প্রদান করেন বিবাদীরা। অপরদিকে ২৭/৮/২৬ তাং বাড়ির সামনে রাস্তার উপরে মাজেদকে বেদম মারপিট করে হাড়ভাঙ্গা জখম করার অভিযোগে বিজ্ঞ আমলী আদালত নং-০৮ সাতক্ষীরায় ৩/৯/২৬ তাং সিআর- ৪১৯/২৬ নং মামলা দায়ের করেন। বাদী আঃ মাজেদ বলেন, তার মামলার বিবাদী/আসামী জাহাঙ্গীর, সামছুজ্জামান, অয়েসকুরনি (পথের মামলা), জাহাঙ্গীর, ইসমাইল, মনোয়ারা, সুমাইয়া (সিআর মিমলা) একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে চলমান মামলা থেকে রক্ষা পেতে গত ২৫/৯/২৬ তাং সোমাইয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পিটি-১১/২৬ নং মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত পিবিআই সাতক্ষীরাতে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আঃ মাজেদ আরও অভিযোগ করেন, তার নামে নারী নির্যাতন মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ঘরের জানালায় হাত ঢ়ুকিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছি--। অভিযোগটি মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক দাবী করে তিনি বলেন, আমি ২৪ বছর ছেলেমেয়েদের পড়াই, ১২ বছর সরকারি প্রাইমারী স্কুলে চাকরীতে আছি। গ্রামের লোকজন, স্ট্যান্ডের লোকজন, স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে জানলে পিআইবি কর্মকর্তা স্যার আমার চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাছাড়া বাদী সোমাইয়া ১ বছর নদীর চরে স্বামীর বাড়ীতে থাকেনা। তার মোবাইল ট্র্যাক করলে ঐদিন তিনি কোথায় ছিল জানাযাবে বলে দাবী করে তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর বাদী পক্ষ তাদের ঘরের জানালা ফাত করে ফেলা, ঘরে লাইট লাগানোর কাজ করেছে। তিনি বলেন, তাদের বিরোধের মূল কারণ, পথ আটকানো। কিন্তু তারা পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত না করায় আমি এসি (ল্যান্ড) আশাশুনি বরাবর গত ৩০ সেপ্টেম্বর আবেদন করি। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বুধহাটাকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা সমস্যাগ্রস্ত হয়ে আছি। ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং পথ উন্মুক্ত করতে যথাযথ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার বাদীর বক্তব্য পেতে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে