দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ জনে। আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে, দুজন বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে এবং একজন রংপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১০ জন রয়েছেন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১৫ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ১৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশালে। এ ছাড়া খুলনায় ১৪১, রাজশাহীতে ১২৮, চট্টগ্রামে ১০৫, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৭২ ও সিলেটে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যান। মে মাসে মৃত্যু হয় একজনের। এরপর জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনেই মারা গেছেন ১১২ জন।
চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৯৭ জন। মাসজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ও নতুন রোগী ভর্তির হিসাব পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ নারী এবং ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন।
গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি।