সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য চার প্রার্থীর একসঙ্গে নেতাকর্মীদের নিয়ে সাতটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও ধর্মীয় উৎসবে একসঙ্গে অংশগ্রহণ, পূজারিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাশে থাকার অঙ্গীকারকে ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা হিসেবে দেখছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজানগর ইউনিয়নের সাতটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী দিরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এবং দৈনিক কালবেলার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক একে কুদরত পাশা, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আহমদ খান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল তালুকদার। এ সময় তাঁরা পূজারি ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তাঁরা বলেন, রাজানগর ইউনিয়ন একটি অসাম্প্রদায়িক জনপদ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করবেন-এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। দেবী বিসর্জন পর্যন্ত পূজারিদের পাশে থাকারও অঙ্গীকার করেন তাঁরা।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী একে কুদরত পাশা বলেন, ‘এ ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে আমার প্রাণের সম্পর্ক। সব সময় ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করি, তাঁরাও আমাকে ভালোবাসেন। মানুষের এই ভালোবাসা থেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রেরণা পেয়েছি। আশা করি, তাঁরা তাঁদের ভালোবাসায় আমাকে আগলে রাখবেন।’ নিজের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন তিনি। ৯৩ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ৯২ দিন সাংবাদিক ও বিএনপির কর্মী হিসেবে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রামের সংবাদ পরিবেশন করেছেন বলেও জানান তিনি।
একে কুদরত পাশা বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হবে রাজানগর ইউনিয়নকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণে নিবেদিত একটি ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা। মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সেবা পান, সেটিই হবে আমার অগ্রাধিকার।’ সম্ভাব্য প্রার্থী আলী আহমদ খান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। এতে আমার দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘দেশে যখন রাজনীতি করার পরিবেশ ছিল না, তখনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দিরাই ও সুনামগঞ্জের রাজপথে ছিলাম। সে সময় অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছি। আশা করি, দল আমার অতীতের ভূমিকা মূল্যায়ন করবে। সে প্রত্যাশা থেকেই এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই।’ অন্যদিকে রাসেল তালুকদার বলেন, তিনি ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে ভোটাররা তাঁকে নিরাশ করবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চার সম্ভাব্য প্রার্থীর একসঙ্গে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় উৎসবে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক সহনশীলতার দৃষ্টান্ত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জু দাস বলেন, ‘এই মানুষগুলো বিএনপির দুর্দিনে দল ছেড়ে যাননি। আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছেন। আজ সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তাঁরা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলেও একসঙ্গে সব পূজামণ্ডপে গিয়েছেন। এটি মানুষের কাছে একটি ভালো বার্তা।’ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিজিল মিয়া, বিএনপি নেতা আজিজ মাস্টার, ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলরাজ মিয়া তালুকদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরুজ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কনু মিয়া, সহসভাপতি সফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আলী আসকর, ফরহাদ মিয়া, ছাদিকুর রহমান, প্রবাল দাস এবং ছাত্রদল নেতা এনামুল হকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।