প্রধান অতিথি মোস্তফা কামাল পাশা, সভাপতিত্বে আসলাম চৌধুরী এফসিএ

সন্দ্বীপে মেধা অন্বেষণে জেএএমের উদ্যোগ, বৃত্তি পাবে ৭০ শিক্ষার্থী

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
সন্দ্বীপে মেধা অন্বেষণে জেএএমের উদ্যোগ, বৃত্তি পাবে ৭০ শিক্ষার্থী

দ্বীপাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের প্রতিভার স্বীকৃতি ও শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে সন্দ্বীপে অনুষ্ঠিত হয়েছে রোকেয়া মুজিবুল স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। সামাজিক ও কল্যাণমূলক সংগঠন জেএএম সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৩০১ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্য থেকে বৃত্তি দেওয়া হবে ৭০ জনকে। তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার মানোন্নয়নে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অতিথিরা।

সন্দ্বীপের মুছাপুরের আব্দুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় এক ঘণ্টার পরীক্ষা। পরে বিকেল আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোস্তফা কামাল পাশা। প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আমির হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেএএম সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন মো. আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার প্রেরণা অর্জন করে। বিশেষ করে দ্বীপাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে যথাযথ স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া গেলে তাদের সম্ভাবনা বিকশিত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল বা জিপিএ-৫ অর্জন নয়; বরং সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেএএম সংস্থার নির্বাহী সদস্য জামিলা নাজনীল মাওলা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহেনা আক্তার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমীরুল আনোয়ার চৌধুরী, আব্দুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক আলী এবং সভাপতি মো. জামশেদ উদ্দীন। এ ছাড়া বৃত্তি পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আনিস আকতার টিটুসহ শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জনকে বৃত্তি দেওয়া হবে। জেএএম সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রসারে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আয়োজকেরা জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে