অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। তবে সিরিজের ফলাফলকে একমাত্র বিবেচ্য হিসেবে দেখছেন না অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, সোবহানা মোস্তারির রেকর্ড গড়া ইনিংস এবং তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সকে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আট উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় জ্যোতির দল। জবাবে মাত্র ২২.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অর্ধশতক তুলে নেন শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। তাদের ব্যাটিংয়ে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পেলেও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে তা যথেষ্ট হয়নি। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েন সোবহানা মোস্তারি। ১১৮ রানের ইনিংস খেলে নারী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হন সোবহানা। ওই ম্যাচে নিগার সুলতানার সঙ্গে তার ১৯৫ রানের জুটি নারী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। শুরুতে কয়েকটি উইকেট হারানোর পর এই জুটি বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে। সফরের প্রাপ্তি নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই দলের কোনো না কোনো খেলোয়াড় এগিয়ে এসেছে। এখান থেকে আমরা অনেক ইতিবাচক দিক পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগাব। এই সিরিজ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।’ অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে দুই তরুণ পেসার হাবিবা ইসলাম ও দিশা বিশ্বাসের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অভিষেক হওয়া হাবিবা ৬ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। জর্জিয়া ভল ও বেথ মুনিকে আউট করে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ওই ম্যাচে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন তিনি। অন্যদিকে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অভিষেক হয় দিশা বিশ্বাসের। নিজের প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার বেথ মুনির গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। ম্যাচটি ছিল মুনির ক্যারিয়ারের শততম ওয়ানডে। তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট জ্যোতি। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ থাকলেও তরুণেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে ভালো করতে দেখেছি। আমাদের দুজনের অভিষেকও হয়েছে। তাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা কঠিন ছিল, তবে মাঠে তারা নিজেদের শতভাগ দিয়েছে।’ এই সফরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের অবস্থান উন্নত করার লড়াইয়ে। ছয় ম্যাচে এক জয় নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সামনে নিউজিল্যান্ড সফরে মূল্যবান পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ পাবে দলটি। আগামী ১৮ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া সফরের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সিরিজে আরও ভালো করার লক্ষ্য থাকবে নিগার সুলতানাদের।