লালমনিরহাটের আদীতমারী উপজেলায় সরকারিভাবে জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার পর ডিসিআর কেটে দখলে যেতে চাওয়া এবং থানায় অভিযোগ দেওয়ার জের ধরে এক পরিবারের ওপর বর্বর ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী বাহিনীর অতর্কিত হামলায় ৭ মাসের শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহত তিনজন গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় সন্ত্রাসীদের মুল হোতা মোঃ আব্দুর রহমান ও মোঃ আবু তালেবসহ ১১ জন নামীয় এবং ১০/১৫ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদি মঞ্জুয়ারা বেগম জানায়, লালমনিরহাট জেলার আদীতমারী থানাধীন সারপুকুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সবদল গ্রামের বাসিন্দা তার স্বামী মোঃ জহুরুল ইসলাম (৩৬)। জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ আবু তালেব, মোঃ মনছুর আলী ও তাদের অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১৪ অক্টোবর সকালের দিকে জহুরুল ইসলাম নিজ বসতবাড়ি সংলগ্ন দোকানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, ছোরা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় ও দোকান ভাঙচুর করতে থাকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামির হুকুমে সন্ত্রাসী আবু তালেব জহুরুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছোরা দিয়ে কোপ দিলে তা ফেরাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে অপর আসামি মোঃ শাহের মন্ডল ধারালো রামদা দিয়ে জহুরুলের মাথার মাঝখানে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে, যার ফলে তার মাথার খুলি ফেটে ২৮টি সেলাই দিতে হয়। জহুরুল মাটিতে পড়ে গেলে অন্যান্য আসামিরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে।
স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী মোছাঃ মঞ্জুয়ারা বেগম এগিয়ে এলে আসামি মোঃ মনছুর আলী লোহার রড দিয়ে তার মাথায় কোপ মারে, যা ফেরাতে গিয়ে মঞ্জুয়ারার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ভেঙে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। মঞ্জুয়ারা বেগমের কোল থেকে তার ৭ মাস বয়সী শিশুকন্যা মোছাঃ জান্নাতুল মাওয়াকে কেড়ে নিয়ে নির্মমভাবে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে শিশুটির নাক ও ঠোঁট ফেটে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগীর দেবর মোঃ রাজ্জাক (২৮) বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে কপাল ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢ়ুকে নগদ টাকা লুটপাট এবং অনুমান ৫০ হাজার টাকার জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বিপুল ক্ষতি সাধন করে। মঞ্জুয়ারা বেগমের গলার ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার মূল্য অনুমান ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরারা। পরবর্তীতে স্থানীয় ও স্বজনদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে আদীতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৭ মাসের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু জহুরুল ইসলাম, মঞ্জুয়ারা বেগম এবং রাজ্জাকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়। এ বিষয়ে আদীতমারী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং জড়িত সন্ত্রাসী বাহিনীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে আদমী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব সজীব জানান, অভিযোগ পেয়েছি, আইনানুপ ব্যবস্থা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।