মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন করতে এবং ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের চলমান নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে চাঁদপুরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের দিনব্যাপী ও সন্ধ্যা পরবর্তী এই অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা এবং জব্দকৃত মাছ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিপনীবাগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জরিমানা
১৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর চাঁদপুরের বিপনীবাগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় প্রায় আড়াই কেজি ওজনের ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই ইলিশ নিয়ম অনুযায়ী তিনজন দুস্থ ব্যক্তির মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়া আইন অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই দিন ওয়্যারলেস বাজারেও অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবে সেখানে কোনো ইলিশ পাওয়া যায়নি।
২. চরভৈরবী ও আমতলী ঘাটে জাল ধ্বংস এবং খালের মুখ বন্ধের প্রতিশ্রুতি
অপরদিকে, হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ও আমতলী ঘাটে খালের মুখে জেলা পুলিশ ও হাইমচর থানার সহযোগিতায় এবং হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জের উপস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় রাখা প্রায় ২০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ সময় মা ইলিশের সুগম চলাচল নিশ্চিত করতে আগামীকাল থেকেই খালের মুখ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
৩. এনএসআইয়ের তথ্যে রনগোয়াল হরিসভা মন্দিরের পাশে অভিযান
একই দিন ১৪ অক্টোবর তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চাঁদপুর পৌরসভারধীন ২নং ওয়ার্ডের রনগোয়াল হরিসভা মন্দিরের পাশে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা এনএসআই চাঁদপুর-এর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব প্রত্যয় হাশেমের নেতৃত্বে এই মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের সময় প্রায় ১৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় এবং তা পরবর্তীতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ এবং পুরান বাজার ফাঁড়ি পুলিশের একটি চৌকস টিম এই অভিযানে সহযোগিতা করে। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান অব্যাহত থাকবে: মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকার নির্ধারিত এই নিষেধাজ্ঞার সময়কালে চাঁদপুরে এ ধরনের যৌথ অভিযান ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।