কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চরাঞ্চলের আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল, মাদক, অস্ত্র ব্যবসা ও অবৈধ বালি মহল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া খুনের মামলার অন্যতম আসামি সন্ত্রাসী শুটার টুয়েল ফরাজী (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত টুয়েল ফরাজীকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে পুলিশের কাছে চরাঞ্চলের অপরাধ সাম্রাজ্য ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে সন্ত্রাসী টুয়েল ফরাজী বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানা পুলিশ।
বুধবার ১৪ অক্টোবর দৌলতপুর থানায় ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা ও ভেড়ামার উপজেলা, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা, নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, চরের জমি দখল, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা এবং অবৈধ বালু মহল দখল ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মুন্তাজ মন্ডল ও নাজমুল হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই আলোচিত জোড়া খুনের মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও অস্ত্রধারী শুটার সন্ত্রাসী টুয়েল ফরাজীকে গত ৪ অক্টোবর বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। টুয়েল ফরাজী উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়ার গ্রামের আলাই ফরাজীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে দৌলতপুর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান জানান, টুয়েল ফরাজীকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী, চরাঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, এবং অবৈধ বালু কারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে সন্ত্রাসী টুয়েল ফরাজী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
ওসি খালেদুর রহমান আরও বলেন, “ সন্ত্রাসী টুয়েল ফরাজীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চরাঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ক্রমশঃ জোরদার করা হবে। চরাঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানা পুলিশ কঠোড় আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান।