মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা চালের মান নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিতরণকৃত চালের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগী সুবিধাভোগীরা। গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা এলাকায় সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায় খাদ্য কর্মসূচি চাউলের বস্তা থেকে বের করা চাউলের মধ্যে গুঁড়ো চাউলের পরিমাণ বেশি।
সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকারের দেওয়া এই চালের মধ্যে সিংহভাগই ভাঙা ও গুঁড়ো চাল। শুধু তাই নয়, অনেক জায়গায় চালের বস্তার ভেতরে দলা পাকানো এবং পোকা ধরা পচা চাল পাওয়া গেছে। রান্নার অনুপযোগী এই চাল পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষগুলো।
সরেজমিনে চাল নিতে আসা বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালের এই বেহাল দশার কারণে তারা ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, "সরকার আমাদের জন্য চাল দিচ্ছে, কিন্তু চালের যে অবস্থা তা মুখে নেওয়ার মতো না। বস্তা খুললেই পোকা দেখা যায়, চালের চেয়ে গুঁড়ো বেশি। চালের ভেতর পানি লেগে দলা বেঁধে নষ্ট হয়ে গেছে।" নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া মূল্যের এই বাজারে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ওপর অনেকটাই নির্ভর করেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু গজারিয়ায় বিতরণ করা এই চালের নিম্নমানের কারণে তাদের সেই স্বস্তি এখন চরম অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং উন্নতমানের চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
রসুলপুর খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন গত ডিসেম্বরের ডিলারার চাউল গ্রহণ করেছেন। চাউল খারাপ হওয়ার কথা নয়। গুদামের নিয়মিত ঔষধ প্রয়োগ করা হয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)উম্মে হাফসা নাদিয়া, বলেন চাউলের বস্তা খুলে বিক্রি করার নিয়ম নেই ৩০ কেজি বস্তা দিতে হবে। চাউলের মান নিয়ে উঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।