স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গোলের উৎসব করেছে চেলসি। বোর্নমাউথকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে জাবি আলোনসোর দল। চেলসির এই জয়ে সবচেয়ে বড় চমক ৩৬ বছর বয়সী জর্ডান হেন্ডারসন। সাবেক লিভারপুল অধিনায়ক করেছেন জোড়া গোল, পাশাপাশি সতীর্থ মরগান রজার্সের একটি গোলেও রেখেছেন অবদান। জোড়া গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা জোয়াও পেদ্রোও। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে চেলসি। খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই দুই গোল করে বোর্নমাউথকে কার্যত হতবাক করে দেয় স্বাগতিকেরা। চলতি মৌসুমে এখনো জয়ের দেখা না পাওয়া বোর্নমাউথের জন্য শুরুতেই বড় ধাক্কা হয়ে আসে এই দুই গোল। ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে কোল পামারের পা থেকে তৈরি আক্রমণে। মাঝমাঠ থেকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে বক্সে ঢ়ুকে হেন্ডারসনকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। প্রথম ছোঁয়াতেই শট নিয়ে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান হেন্ডারসন। এরপর কিক-অফের পরপরই আবার আক্রমণে যায় চেলসি। পেদ্রো নেতোর শট ঠেকিয়ে দেন বোর্নমাউথ গোলরক্ষক জর্জে পেত্রোভিচ। তবে পরের আক্রমণেই গোল পায় স্বাগতিকেরা। বক্সের বাঁ দিকে থাকা রজার্সকে বল বাড়িয়ে দেন হেন্ডারসন। ইংলিশ তারকার বাঁকানো শট আন্তোনিও সিলভার মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ম্যাচের মাত্র ১৪৯ সেকেন্ডেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। শুরুতে দুই গোল হজম করেও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বোর্নমাউথ। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রায়ান দারুণভাবে এগিয়ে গিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু চেলসি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বল থেকে রায়ান ক্রিস্টির শটও আটকে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করে চেলসি। বিরতির পর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মাথায় সিলভাকে কাটিয়ে বাইলাইন থেকে বল পেছনে বাড়ান নেতো। সেখান থেকে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন পেদ্রো। এর পাঁচ মিনিট পর এক গোল শোধ দেয় বোর্নমাউথ। কর্নার থেকে আসা বল গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন চেলসির মইসেস কাইসেদো। তার ক্লিয়ারেন্স এভানিলসনের গায়ে লেগে জালে ঢ়ুকে যায় বল। তাতে কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরার আশা দেখে সফরকারীরা। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ মিনিটে রজার্সের পাস ধরে বাঁ দিক থেকে পেপ চাভারিয়ার বাড়ানো ক্রস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পেদ্রো। চেলসির লিড তখন ৪-১। এরপর হেন্ডারসনের জাদুকরি ফ্রি-কিকে আসে পঞ্চম গোল। বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। তাতেই ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় চেলসির। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন ছিল চেলসি। সেই হতাশার মধ্যে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-০ গোলের হারও ছিল। এবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিল আলোনসোর দল।