সাজানো চাঁদাবাজি মামলায় কারাবরেন্য সাংবাদিক সবুজের জামিন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
সাজানো চাঁদাবাজি মামলায় কারাবরেন্য সাংবাদিক সবুজের জামিন

এক কোটি টাকার সাজানো চাঁদাবাজির মামলায় কারাবরেন্য সাংবাদিক দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালতের বিচারক। বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শেষে আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

পাশাপাশি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় পিঠমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পড়ানোর ঘটনায় জড়িত এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত টিমের তদন্তে অভিযোগের রির্পোট পাওয়ার পর জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বরগুনার জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক আসাদ সবুজকে মিঠমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার এসআই হারুন-অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আসাদ সবুজের পক্ষে তিন দফা জামিন আবেদন করা হয়। গত ৪ অক্টোবর বরগুনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিনের আবেদন করলে বিচারক জামিন শুনানির দিন ৬ অক্টোবর ধার্য্য করেন। ওইদিন আদালতের বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। মামলার শুনানিতে অ্যাডভোকেট এমএ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস অংশগ্রহণ করেন। আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা এবং জামিন সম্পর্কে বুধবার দুপুরে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, অনেকে চেয়েছিলেন আসাদ সবুজ আজীবন কারাবন্দী থাকুক। সবুজের সততা আর প্রতিবাদী আচরণই ছিল তাদের প্রধান সমস্যা। আসাদ সবুজের জামিন লাভের মধ্যদিয়ে প্রাথমিক বিজয় অর্জন হয়েছে। এ বিজয়ের পুরো অর্জন গোটা দেশের সাংবাদিকদের, যারা সত্যের পক্ষে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আসাদ সবুজকে সাজানো মামলার নাটক থেকে অব্যহতির পরে চুড়ান্ত বিজয় দেখবে গোটা বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ। আসাদ সবুজের নিঃশর্ত মুক্তির আন্দোলনের সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের প্রতি তিনি (আহমেদ আবু জাফর) গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অপরদিকে পুলিশ সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে অমানবিক নিপীড়ন চালিয়েছে, তা গোটা দেশের সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশের একটি টিম বরগুনায় গিয়ে মামলার ঘটনা সম্পর্কিত জমিজমা এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এ মামলাটি সাজানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে ভূমিদস্যু সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে বরগুনার পুলিশ। এ মামলায় আরো ১৩ জন আসামি রয়েছে। মামলায় এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এক কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন ভূমিদস্যু সুভাষ ঘোষের ভাই স্বপন কুমার ঘোষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে