পজেশন বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের হিড়িক পড়েছে

এফএনএস (কে, এম, আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপ, খুলনা) : | প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের হিড়িক পড়েছে

খুলনার দাকোপে যেন সরকারী জায়গা দখলের হিড়িক পড়েছে। দখলকৃত জায়গায় বসত বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। অতীতে সরকারের নিকট থেকে অর্থ নিয়ে জায়গা ছেড়ে যাওয়া দখলদাররা ফের মেতে উঠেছে অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায়। অভিযোগ উঠেছে অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় দখলদাররা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডার নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক দ্বীপের উপর দাড়িয়ে এই দাকোপ উপজেলা। চারিপাশে নদী বেষ্টিত উপজেলাটি পাউবোর নির্মিত বেড়ীবাঁধ দিয়ে অভ্যান্তরীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আর এই সকল বাঁধকে ঘিরে উপজেলার প্রান কেন্দ্র চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বটবুনিয়া, কালীনগর, মোজামনগর, নলিয়ান, জয়নাগর, বানীশান্তা, বুড়িরডাবুর, হোগলা বুনিয়া, পোদ্দারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় বাজার। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পেরিফেরী ভুক্ত জায়গাসহ অধিকাংশ বাজার গুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মান করে গড়ে উঠেছে। স্থায়ী বাজারের বাইরে সমগ্র উপজেলায় যত্রতত্র বেড়ীবাঁধের দু’পাশ দখল করে বসত ভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময় পাউবোর ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মান করা হয়। তখন সেখানে থাকা দখলদারদের পূনর্বাসনে মোটা অংকের অর্থ ক্ষতিপূরন দিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষে রাস্তা হস্তান্তরের সাথে সাথে একই প্রক্রিয়ায় বেড়ীবাঁধের দু’পাশ ফের দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হয়। অধিকাংশ বাজারে নির্মিত স্থাপনার বারান্দা তৈরীতে দখল নেওয়া হয়েছে ফুটপথ। ফলে জনসাধারনের চলাচলের রাস্তাটিও সংকুচীত হয়ে হাটা চলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে আবার সরকারী জায়গার পজেশন দখল করে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিচালিত অভিযানে কিছু জায়গা দখলমুক্ত হয়। কিন্তু দলীয় সরকার আসার সাথে সাথে শুরু হয় অবৈধ দখলের মহাউৎসব। সম্প্রতি বাজুয়া ও লাউডোপ ইউনিয়নে দেখা যায় সরকারী জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মান করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্মান কাজ অব্যহত আছে। জানা গেছে বাজুয়া খুটাখালী লাউডোপ এলাকায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সরকারী জায়গা পজেশন হিসাবে বিক্রি করা হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকাতয় চলে এই দখল বানিজ্য। বর্তমানে ক্ষমতাসীনদলের ছত্রছায়ায় দখলদাররা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দখল প্রক্রিয়া অব্যহত থাকলেও অজ্ঞাত কারনে তারা নির্বিকার। ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানায়, কয়েকবছর আগে ভবিষাতে সরকারী জায়গা দখল করবেনা মর্মে ষ্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গিকার নামা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ফের সেই জায়গা দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার হয়না। তারা কেবল লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। অথচ সুযোগ ছিল ওই সকল বাজারের পেরিফেরীর জায়গা এবং সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সম্পত্তি একসনা বন্দোবস্ত বা লীজ প্রক্রিয়ার আওতায় এনে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়ের।     

এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর দাকোপ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ সেবগাতুল্যাহ বলেন, আমি জানার পর কিছু স্থাপনা নির্মান সরিয়ে দিয়েছি। আর পাকা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারিদের দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে