মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার যৌথ আয়োজনে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. হরিপদ রায়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। বোংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুজিত রায় ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিংকুর যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সার্বজনীন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের দেশের সর্বজনীন উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হয়। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে যাতে সবাই নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পূজার আনন্দ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সভায় বক্তারা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শ্রীমঙ্গলে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। এ বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোট ১৭৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৫৭টি সার্বজনীন এবং ১৬টি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপ রয়েছে। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রীমঙ্গলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে উৎসব উদযাপনের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।