পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সৈয়দপুরে হোটেল ব্যবসায়ীরা চিন্তিত

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সৈয়দপুরে হোটেল ব্যবসায়ীরা চিন্তিত

চিনি, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, চাল, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। একদিকে বেড়েছে উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না তারা। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কাঁচামালের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। এর সঙ্গে বেড়েছে গ্যাস, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়। কিন্তু সেই তুলনায় খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সৈয়দপুর তাজির উদ্দিন গ্র্যান্ড হোটেলের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন,পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। একটি পরোটা ১০ টাকা এবং সাদা রুটি ১০ টাকায় বিক্রি করছি। অথচ আটা-ময়দাসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। এখন যদি পরোটা ও রুটির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা করা হয়, তাহলে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তাই দাম বাড়াতেও পারছি না, আবার আগের দামে বিক্রি করেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বনফুল হোটেলের পরিচালক রবীন ঘোষ বলেন, “দাম বাড়ার কারণে হোটেল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে ব্যবসায় মন্দাভাব সব মিলিয়ে খুব কষ্ট করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রাখতে হয়। হঠাৎ করে খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বর্তমান দামে খাবার বিক্রি করলে উৎপাদন খরচও উঠে আসে না। এতে ছোট ও মাঝারি হোটেল ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন। আকতার হোটেলের পরিচালক বলেন,সৈয়দপুর উপজেলায় কয়েক শতাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হোটেল ব্যবসায় মন্দাভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শ্রমিকদের পরিবারেও পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। হোটেল ব্যবসায়ীদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল করা গেলে তাদের ব্যবসার খরচও কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি হোটেল ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে