১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে ধর্ষণ মামলার বাদীকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষন মামলা আপোসমীমাংসা করে ধর্ষককে কারামুক্ত করে আনতে রাজি না হওয়ার কারনে বাদীকে (ধর্ষিতা) অশ্লীলভাষায় গালিগালাজসহ জীবনণাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও নির্যাতিতা অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় ধর্ষন মামলার বাদী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম বার্থী গ্রামের।
নির্যাতিতা ও মামলার বাদীর অভিযোগে জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত বছর বার্থী গ্রামের তিন সন্তানের জননী সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর গ্রামের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে প্রায় আড়াই মাস আটকে রেখে অসংখ্যবার ধর্ষণ করে ওই এলাকার হালিম সন্যামাত।
বাদিনী অভিযোগ করে বলেন , স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী হালিম সন্যামাত আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হলে ২০২৫ সালের ২ মার্চ দিবাগত রাতে হালিম সন্যামাত কৌশলে আমাদের ঘরে ঢুকে সন্তানের গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখায়। পরবর্তীতে ওড়না দিয়ে আমার হাত ও মুখ বেঁধে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে বিবস্র করে ভিডিও ধারণ করে।
বিষয়টি কাউকে জানালে ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে ব্লাকমেল করে একটি কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার স্বামীকে তালাক দেয়ানো হয়। এরপর বিয়ে করার আশ্বাসদিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে একটি ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে য়ায়। সেখানে বসে বিয়ের প্রলেভন দেখিয়ে ২ মাস ২২দিন আটকে রেখে অসংখ্যবার আমার সাথে দৈহিক মেলামেশা করে হালিম।
পরবর্তীতে আমি কৌশলে পালিয়ে বাবার বাড়িতে এসে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হলিমকে আসামি করে একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করি।
আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য বরিশাল পিবিআইকে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকতা আমাকে মেডিকেল পরীক্ষা করায় ও দীর্ঘদিন তদন্ত করে আদালতে চার্শিট দাখিল করেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, মামলা দায়ের কথা শুনে আসামি হালিম সন্যামাত আত্মগোপন করে। বাদি আরো বলেন , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী থানার এসআই মো. আমীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত পহেলা মে দিবাগত গভীর রাতে আসামি হালিমকে গ্রেপ্তার করেন।
বর্তমানে সে (হালিম) বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। এরইমধ্যে আসামির স্বজনরা হালিমকে জামিন করাতে ব্যর্থ হয়ে মামলাটি আপোষমীমাংসা জন্য চাঁপ সৃষ্টি করে।
তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ আমাকে (বাদী) জীবনণাশের হুমকি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, আমি আপোষমীমাংসা রাজি না হওয়ায় আসামির স্বজনরা ১০ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে আসছে।
এবিষয়ে বক্তব্য জানতে হালিমের বাড়িতে গেলে তাঁর ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ সময় পরিবারের কোনো সদস্যকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার বাদীকে হয়রানি বা হুমকির অভিযোগের বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, মামলার বাদীকে কেউ হয়রানি করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।