জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন নামঞ্জুর
ছবি: সংগ্রহীত

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

জামিন শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত, তাছলিমা জাহান পপিসহ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন। জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মাসুম মিয়া।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পল্টন মডেল থানার এসআই মো. নাজমুল ইসলাম ২৭ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের স্বার্থে তাদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

ওই আবেদনের পর আদালত ২৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। রোববারের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য সোমবার দিন রাখেন।

জামিন নামঞ্জুর হওয়া ২৭ জন হলেন দিদারুল আলম তুহিন, ইমান আহমেদ ইমন, মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মিরাজ আহমেদ, মিরাজ মালিথা, রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার মহন্ত, কাউসার হোসেন, শ্রী অঞ্জন শীল, জালাল উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহাম্মেদ আহসান হাবিব, সুজন আলী, তসিকুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ সায়েক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিষ্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আল আমিন হাওলাদার, তুষার আলী, রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।

যেভাবে অভিযান, আটক ও গ্রেপ্তার
২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরের পর ঢাকার গুলিস্তানে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় কার্যালয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষকে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হেফাজতে নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ জনের মতো ছিল।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বাকি ২৪৯ জনকে রোববার ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়েছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য ছিল, জাসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছিলেন, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ভেতরে সভা চলার তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। কারা কী উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে জাসদের পক্ষ থেকে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানানো হয়। দলটির দাবি, পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে এবং লিখিত অনুমতি নিয়েই সারাদেশ থেকে আসা নেতাদের অংশগ্রহণে প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগ, প্রতিনিধি সভা চলার সময় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালান। পরে পুলিশ তাদের বের করে দিয়ে জাসদের নেতাকর্মীদের আটক করে। একই সঙ্গে জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সভাস্থলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের থাকার অভিযোগ সঠিক নয়।

ফলে জাসদ কার্যালয়ে কারা কেন জড়ো হয়েছিলেন এবং সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগের সত্যতা কী, তা নিয়ে পুলিশ ও জাসদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন আছে বলে জামিন শুনানিতেও আদালত উল্লেখ করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে