কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নগরীর কাশিপুর এলাকার বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি কার্যালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় এজাহারভূক্ত পাঁচ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার শেষকার্যদিবসে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের এয়ারপোর্ট থানার জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) হুমায়ুন কবির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন-দেলোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন, আমিনুল ইসলাম নয়ন, তানভির আহমেদ মুন্না ও আনিসুর রহমান মঞ্জু। তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
সূত্রমতে, ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার এসআই মো. ইদ্রিস আলী বাদি হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ২৫ জনের নামোল্লেক করে আরো অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভূক্ত পাঁচজন আসামিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝটিকা মিছিল বের করে। একপর্যায়ে মিছিলটি এয়ারপোর্ট থানাধীন বিসিসি ২৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ ইছাকাঠীর মার্কাজ মসজিদ এবং লাদেন সড়কের মুখের মধ্যবর্তী সিকদার বাড়ির সামনে পৌঁছার পর মিছিল থেকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি পটকা বিস্ফোরন ঘটানো হয়। তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে পুলিশ, এসআরবি ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ওই ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার এসআই মো. ইদ্রিস আলী বাদি হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নামোল্লেক করে শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভূক্ত পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
সূত্রমতে, মামলার এজাহারভূক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম রাকিব, বিসিসি ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন মাঝি, ২৮নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী সৈয়দ রাব্বি, ইফাদ মোল্লা, ইমরান চৌধুরী, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তমাল, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ কর্মী মো. শুভ, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মেহেদী, আল-আমিন শেখ, তাজুল ইসলাম লিয়ন, রায়হান মোল্লা, সোহাগ ঢালী, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. মামুন মাঝি, রাতুল মাঝি, এনায়েত হোসেন, আজমল হোসেন মৃধা, সিফাত সিকদার, শুক্কুর সিকদার, মো, শাফিক, শেখ তানভির হোসেন, আনিসুর রহমান মঞ্জু, দেলোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন আকন, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ও তানভির আহম্মেদ মুন্না। এছাড়াও মামলায় আরো অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।