দিরাইয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
দিরাইয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’-এই প্রত্যয়ে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত হয়েছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিরাই উপজেলা পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এ উপলক্ষে উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দিরাই পিএফজির সদস্য ও রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আহমদের সভাপতিত্বে এবং পিএফজি সমন্বয়কারী সামছুল ইসলাম সরদার খেজুরের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্ত্ ালক্ষী রানী তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ হাসান আলেক, দিরাই সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক লালবাঁশী দাস, দিরাই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিপ্রা রায়, কর্ণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুবিনা আক্তার, দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছবি চৌধুরী ও দিরাই উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন তালুকদার। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।

কুদরত পাশা বলেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্প শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। বহুদলীয় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি), ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি) এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ইন্টারফেইথ পিস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কুদরত পাশা আরও বলেন, সম্প্রীতি সমাবেশ, সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মানববন্ধন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও নাটিকা মঞ্চায়নের মতো বিভিন্ন পিস ইভেন্টের মাধ্যমে সমাজে সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন দিরাই উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক সৈদুর রহমান তালুকদার, তাড়ল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জুয়েল আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনেদ মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রোপিয়া, রাহেলা ও হাফছা বেগম এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর লিপিকা বিশ্বাস, আশরাফ হোসেন, হাবিবুর রহমান, তাকমিনা ও নাজিয়া সরদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তারা সহিংসতা, গুজব, অপতথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা আরও বলেন, টেকসই শান্তির জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস প্রতিষ্ঠা করে। পরে ২০০১ সালের ৫৫/২৮২ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ২১ সেপ্টেম্বরকে প্রতিবছর অহিংসা ও যুদ্ধবিরতির দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে