জামায়াতের লংমার্চ আ.লীগকে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টি করছে: রাশেদ খান

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
জামায়াতের লংমার্চ আ.লীগকে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টি করছে: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ৮ দফা দাবির নামে আগামী ডিসেম্বরে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেওয়া হলে এর পরিণতি ভালো হবে না।

রাশেদ খান বলেন, শহীদ আবু সাঈদ জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন কীভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত সেই শহীদ আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গেই বেইমানি করেছে। তবে এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকটের কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের গাড়ি ব্যবহার করে জামায়াত-এনসিপি লংমার্চ করে উল্টো জনদুর্ভোগ তৈরি করছে। তার ভাষায়, “গাড়িবহর নিয়ে নয়, পায়ে হেঁটেই তাদের লংমার্চ করা উচিত।” জামায়াতের ৮ দফা দাবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে, অন্যদিকে এখন সেই সনদ নিজেরাই মানছেন না।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, জামায়াতের হঠকারী কার্যক্রমের কারণে সরকারের পক্ষে ফ্যাসিবাদ নির্মূলের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। “তারা ভেতরে ভেতরে ফ্যাসিবাদকেই পুনর্বাসন করার অশুভ পরিকল্পনা করছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, দেশে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হলে এর দায় জামায়াত ও এনসিপিকে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির জনপ্রিয়তা ঠেকাতে জামায়াত-এনসিপি ষড়যন্ত্র করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চলে জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, দুদককে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

লংমার্চ নিয়ে রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের ৭টি দাবিতে রাস্তাঘাট বন্ধ করে লংমার্চ করার প্রয়োজন নেই। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পুরো একদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তা বন্ধ রাখার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রংপুরেও একই অবস্থা হবে। এভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে জনগণের উপকার করতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, হরতাল না দিলেও লংমার্চে রাস্তাঘাট বন্ধ করা সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা, জ্বালানির অপচয় করা এবং আওয়ামী লীগকে উস্কে দিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে ঘিরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খান বলেন, “জামায়াত জোটের এক নেতার নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রাডো গাড়িতে করে লংমার্চ করছেন। লংমার্চের সমাবেশে খিলখিলিয়ে হাসছেন, উসকানি দিচ্ছেন।”

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রাশেদ খান বলেন, হাসপাতালে আর কোনো সিন্ডিকেট ও দৌরাত্ম্য থাকবে না। এসব বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় হাসপাতালে পুলিশের ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে আগামীকাল থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল ক্যাম্পাসের সীমানার আশপাশে মাদকের ব্যবহার ও সিন্ডিকেট বন্ধে পুলিশ কাজ করবে। আরও সহযোগিতার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরও কেউ হাসপাতালকে জিম্মি করে বা সিন্ডিকেট তৈরি করে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশেদ খান বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে, যাতে রংপুর বিভাগের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে। ৮ দফা দাবি আদায়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, লংমার্চের পথে সড়কের দুই পাশে কোটি মানুষ সমর্থন জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন এবং সকালে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।